মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

কবিতার মাধ্যমে আলেমদের মুখোশ উন্মোচন

মহিব খান


প্রাণের আওয়াজ শুনো হে বন্ধু, মুখে নয়,বলি প্রাণে।
যেদিকে তাকাই শুধু নিরাশাই,
আশা নেই কোনখানে।
ভেব না আমায় ভিরু-নিরুপায় কিংবা নিরাশাবাদী বহু আশা বুকে,
বোঝে না তা লোকে
আমি সেই দুঃখে কাঁদি।
 ঘন আধারের পথ পাড়ি দিতে চেয়েছি যাদের নিয়ে
নতুনের পথে আসেনা তাহারা পূরণকে বাদ দিয়ে।
 মুক্ত হ্রদয়ে তাহাদের লয়ে করিতে পারিনা কিছু,
বুক উচুঁ করে ছুটে যায় পরে ফিরি মাথা করে নীচু
বিশ্ব সমাজ বহু আগে চলে আমাদের ফেলে
আমরা তো আছি, ঘরে বসে মাছি মারার ফান্দি মেলে!
সারা পৃথিবীর ভেতর বাহির চুষে খায় মূর্খরা,
এলেমের বোঝা কাধে নিয়ে সোজা হতেই পারিনা মোরা!
বিজ্ঞানে চড়ে তারা যায় উড়ে চাঁদে আর মঙ্গলে,
আমরা এখন বাতাস কুড়াই খাদে আর জঙ্গলে,

বাথরুমে বসে পৃথিবীটা চুষে কম্পূটারে তারা,
 আমরা সেখানে দুই টাকার পানে খুশিতে আত্মহারা
প্রযুক্তি আর শক্তির জোরে সাগরে ভাসায় ঘাঁটি,
 আমরা এখন ছাড়তে পারিনাই ভিক্ষার থালা-বাটি
 নির্ভীক পায়ে চলিতে পারিনা সময়ের রাজ পথে,
থেকে থেকে মোরা খুঁড়ো হয়ে যায় বুড়োদের সহবতে।
 বোমা মেরে সব গুঁড়ো করে ওরা শত মাইল দূরে বসে,
আমরা তো দিন আয়েশে কাটাই চেহারায় তেল ঘঁষে।
দুই কলম শিখে,আল্লামা লিখে নামে দেই জোড়াতালি
-ফেনবি,ড়াকুবি, জালালাবাদী বা চাট গাই,বরিশালি।
 পর্দার ড়রে নিজেরাই ঘরে চোখ্ বুজে বসে থাকি,
হাত পা গুটিয়ে ,মসজিদে গিয়ে শুধু আল্লাহরে ড়াকি,
ছবিনা দাওয়াত পেলে ভুলে যাই নিজেদের দাওয়া-দাবী।
আজ ফায়সালা করিতে পারিনা জোব্বা না পাঞ্জাবী !
আমরা এখনো পুরোনো দিনের ছেড়া কেতাবাদি পড়ি,
বর্তমানের শর্ত না মেনে গোঁড়ামির পথ ধরি।
 তাহারা মোদের চেপে বসে কাঁধে,গর্দানে বাধে দড়ি,
আমরা তখনো তাজা মাড় দিয়ে পাজামা ইস্ত্রি করি!

 তাহারা যখন মারে বন্দুক,ছাড়ে বারুদের গোলা,
আমরা তখনো ক্ষেতের আইলে খুঁজি কুলুপের ঢ়েলা .
আমাদের আছে হিংসা,লালসা,জেদে ভরা ফুসফুস।
খোলামেলা মন-মানসিকতায় মোরা বড় কজ্ঞুস!
বড় জোর মোরা ইমামতি নিয়ে করে যাই তালাতালি,
হতে তো পারিনা-আবু আলি শিনা,থানবি বা ইমাম গাজ্জালি!
নিজেরা নিজেরা ঝগড়া বাঁধাই পিরালির ময়দানে
অন্যের কথা মেনে নিতে বড় বাধে আমাদের শানে!
আমরা এখনো পড়ে আছি যেন শত কোটি মাইল পিছে,
আমরা যে হাঁটছি আমাদের মাটি আছি কি পায়ের নিচে?
জানিনা আরবি, উর্দু, বাংলা বা ইংরেজি,
কেচ্ছা-কাহিনী,গীত-গজলেরবয়ানে বড়ই তেজী।
 ইনভেস্ট ছাড়া বিজনেস করি বস্তায় ভরি টাকা
ভাবি মনে,আর কি-বা হতে পারে এর চেয়েভাল থাকা?
 বেহায়া নারীর চেহারার ভয়ে পত্রিকা পড়া ছেঁড়ে,
সারা দুনিয়ার রাখিনা খবর,ময়দানে আসি তেড়ে।
মিছিলে মিছিলে দুনিয়া ফাটাই,
 জানিনা তো চাঁই কি-
যে কিসে ভাল,কিসে মন্দ বুঝিনা কে আমি নিজে।
 ছোট্‌-খাটো কিছু জয়ের ভাবনা ভয়ের শিকলে বাঁধা,
শিষ্যের চোখে বিশ্ব-বিজয়ী,বিশ্বের চোখে গাধা!

 ভাষা ,সাহিত্য,সংস্কৃতি থেকে করি পরহেয গারি,
 লেবাস-পোষাক,চুলদাড়ি নিয়ে অযথাই বাড়াবাড়ি।
 আরে বে-খবর,কিছুদিন পর রোবেনা গায়ের ছাল
রক্ত-মংস ছিড়ে খাবে তারা,রবে শুধু কংকাল!
আফগান খেলো,বাগদাদ খেলো,তিলে তিলে খাবে সব,
আমরা এখনো ছাড়িতে পারিনা নিজেদের মতলব!
ফরজ মানিনে,মুস্তাহাবের দড়ি নিয়ে টানা-টানী
কুর'আন-হাদিস ছেড়ে কপ্‌চাই বুজুর্গানের বাণি!
এখন যে মানুষ নামায পড়ে,এতটুকুইতো বেশি,
টুপি আছে কি-না লম্বা না গোল,এত কেন রেশারেশি?
শেষ জামানায় রোজা ও পূজার ব্যবধান বুঝে যারা,
 এত টুকতেই রাজি খুশি খোদা,চির কামিয়াব তারা।
 দেশ-রাজনীতি জালিমের হাতে,
মোরা শুধু চেয়ে দেখি
 পল্টনে গিয়ে হৈ চৈ ছাড়া পারি মোরা করিতে কি?
আমাদের ড়াকে হাজারও মানুষ আসে নিয়ে লাঠি-বাঁশ
নির্বাচনে তো এলাকার ভোটে করিতে পারিনা পাস।
 অন্ধভক্তি পুঁজি করে চলি,
মুলত শক্তিহীন ওয়েজ-নসিহত মানুষেরে করি,
ছেলেমেয়ে বদদিন।
 ছলনে বলনে বানয়াটি করি,
ইবাদতে রিয়া,

আমাদের বদ দয়া হয়ে করে বিপরিত ক্রিয়া।
 টিভি স্যাটেলাইয়ট,ইন্টারনেট ছেড়ে
তাহাদের হাতে রুমাল,খিলাল,
পিকদানি নিয়ে বেচে আছি পেটে-ভাতে।
তারা যাহা করে মানিনে,
আবার নিজেরা পারিনা
কিছু,পরিনামে তাই জনসাধারন ছুটে তাহাদের পিছু।
 পদর্মযাদা,হাদিয়া,তোহফা,বাড়ি গাড়ি আলিশান।
গদ্দিনশিল পিরালির নামে অগনিত মুরিদান।
 রাষ্ট্র সমাজ চলে গেছি মোরা ধ্বংসের কাছাকাছি ,
তবু মহাসুখে পান খাই আর হাসি মুখে গোঁফ চাঁছি।
 জনকল্যাণে সমাজ সেবায় রাখিনা তো অবদান
ভয়ে পিছুটানে ঠকে না তো কানে সময়ের আহবান!
মোটেও বুঝিনা আধুনিকতার কিছু
 দৃষ্টিটা অতি ক্ষুদ্র এখনো চিন্তাটা অতি নিচু !
নিজের মাঝে কোনো প্রতিভার করিনা মুল্যায়ন
 ভাবি-গেল,গেল,বরবাদ হল!
সমুলে করি দমন।
 এভাবেই যদি চলে নিরবধি,
ক্ষমতার গদি পেলে-কুড়িটা মিনিট চালানো
 যাবে শতাধিক জনে মিলে?
 কোন ভরসায় করি বল
আশা ক্ষমতা বা সম্মান
 পদে পদে যদি করি নিজেরাই নিজেদের অপমান?
ড়াক দিয়ে যায়- জাগো হে সবাই!
হও হও বিকাশিত জ্বালাও জ্বালাও-
যে আগুন আছে অন্তরে লুকায়িত।
 পিছুটান ভুল,
চোখ কান খুলো,চেয়ে দেখ চারিধার
 ঘন,কালো,ঘোর তিমির আঁধারে ছেয়ে গেছে দুনিয়ার!
শক্তি সাহস-বুদ্ধির বলে হয়ে ওঠো বলিয়ান
,পরাজয় ভুলে করো করো শুরু বিজয়ের অভিযান।
শেয়ার করুন