রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৯

লোগো ডিজাইনের তাত্বিক ধারনা ।




এবারের লোগো ডিজাইনের কতিপয় তাত্বিক আলোচনা করবো ।
লোগো ডিজাইনের মোট সাতটি বিষয়ে নিয়ে আমাদের আলোচনা করতে হবে ।
1.  কমিউনিকেশন 
2. সিম্পলিসিটি 
3.কালার 
4.ফাংশন 
5.ফ্যাশন 
6.এপ্লিকেশন 
7.গ্রো

1.  কমিউনিকেশন লোগো কি এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ..
লোগো ডিজাইনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনসিডারেশনের
বিষয় হলো কমিউনিকেশন বা যোগায়োগ ।
একটি লোগো প্রথম দর্শনেই তার কোম্পানির সঙ্গে এর টাগের্ট
একটি যোগসূত্র করতে হবে এমনিভাবে যে, কোন লোগোকে ডিজান করতে হবে ।
লোগো ডিজাইনের মধ্য দিয়েই কোম্পানির সমঙ্গে যুক্ত ক্লায়েন্টরা ধারনা নিবে
এই কোম্পানির সঙ্গে তারা কি উদ্দেশ্যে যুক্ত হবে ।
যেমন ধরা যাক একটি ব্যাংক বা ইনভেষ্টমেন্ট কোম্পানির লোগো ।
এই লোগোটি এমন হতে হবে যেন যে কোন ব্যাক্তি লোগোটি দেখে
তাদের আস্থা বা বিশ্বাসের জাযগাটি পেতে পারে ।
কেননা ব্যাংক বা ইনভেষ্টমেন্ট কোম্পানিতে মানুষ তার অর্থ লগ্নি করে ।
   
 2. সিম্পলিসিটি লোগো কি এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ..
 বিখ্যাত দার্শনিক প্লেটো ডিজাইনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উক্তি করেছেন ।
এটি হলো "Beauty of the style and Grace depent on Simplity"
 লোগো ডিজাইনের এই গুরুত্বপূর্ণ টিপসটি মাথায় রাখতে হবে ।
 একটি ভালো লোগো ডিজান সর্বদা কোম্পানির সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি আকর্ষণ হতে পারে ।
একটি কোম্পানির অনেক গুলো বিষয় থাকতে পারে , তবে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ফোকাশ করতে হবে,
সেটি খুজে বের করতে হবে ।যেমন কোন কোম্পানির এমন প্রোডাক্ট থাকতে পারে যা তরুন ,
এবং বৃদ্ধ উভয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোডাক্ট উৎপাদন করতে পারে ।
এখন লোগো ডিজান করার সময় ঠিক করতে হবে যে, কোন অডিয়েন্সকে টাগের্ট করলে
কোম্পানির জন্য বেশি লাভবান হবে । যেমন ধরা যাক নাইক কোম্পানির লোগো ।
নাইক কোম্পানি তরুন ,বৃদ্ধ সবার জন্য জুতা উৎপাদন করে ।
কিন্তু  এর লোগো ডিজাইনের সময় তারুণ্য ও গতির প্রতীককে বেশি গুরুত্ব দিয়ে
লোগো তৈরি করেছে ,কেননা তরুনরাই তাদের টাগের্ট অডিয়েন্স ।
আপনার কোম্পানির সব চাইতে কোর এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি কি
ডিজাইনের আগে সেটিকে প্রথমে চিহ্নিত করুন ।
অতঃপর সিম্পলিসিটি সেটিকে টাগের্ট করে লোগো ডিজান করুন ।
ফলে এটি সহজে অডিয়েন্সর সাথে কমিউনিকেট করবে ।
 কোন লোগোকে দৃষ্টি আকর্ষণীয় করার জন্য এর উপর বিভিন্ন ধরনের ইফেক্ট যেমন কালার, গ্রো,
 ড্রপশ্যাডো প্রভৃতি যুক্ত করা হয় ।

3.কালার লোগো ডিজাইনের গুরুত্বপূর্ণ দিক কালার ।
কোন লোগোর জন্য   পারফেক্ট কি কালার হবে ?
নউত্তর ও নিহীত আছে লোগো ডিজানটির ব্যাকগ্রাউন্ড এর উপর ।
তবে লোগো ডিজাইনের অনেক র্নিদেশনা আছে ,তার মধ্যে সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
হলো লোগো ডিজাইনের ক্ষেত্রে বেশি কালার ব্যবহার করা যাবে  না ।
ভাল কোন কোম্পানির লোগো খুব বেশি হলে সবোর্চ্চ তিনটি কালার ব্যবহার করে ।
 
 4.ফাংশন লোগো প্রাথমিক ফাংশন হচ্ছে কমিউনিকেট করা ।
এই ফাংশন ডিপেন্ড করে কোথায় এটি ব্যবহার করা হবে তার উপর ।
যেমন কোন লোগো মিড়িয়ার জন্য ব্যবহার করা হবে তখন এর ফাংশন হবে ভিন্ন ।
আবার যখন কোন লোগো ওয়েব এর উপর ব্যবহার করা হবে তখন এর ফাংশন হবে ভিন্ন ।
এই ভিন্ন ভিন্ন জায়গার উপর ভিত্তি করে এর ডিজান ভিন্ন ভিন্ন হবে ।


  5.ফ্যাশন  যে কেউ ফ্যাশন পছন্দ করে তবে লোগো ডিজাইনের ক্ষেত্রে 
   ফ্যাশন ব্যবহারের সর্তকতা থাকতে হবে ।
   এর কারন একটি লোগোকে র্মাকেটে দীর্ঘ দিন ঠিকে থাকতে হবে । 
 এ জন্য বেশী ফ্যাশনের লোগো ব্যবহার করা বিপদজনক ।
যেমন কোন ফন্ট ব্যবহার করা হয় যেটি বেশি স্টালিস এবং ফ্যাশনেবল ।
তবে সেটি খুব দ্রুত পুরোনো হয়ে যাবে । 


6.এপ্লিকেশন একটি ভাল লোগোর সাফল্য নির্ভর করে এর এপ্লিকেশন বা ব্যবহারের উপর ।
এ জন্য প্রতিটি কোম্পানিতে লোগো ব্যবহারের একটি গাইড লাইন থাকা উচিৎ ।
এই গাইড লাইন না থাকার কারণে অনেকে তাদের কোম্পানির মেঝ বা
 ফুটপ্রিন্টে ব্যবহার করে যেটি লোগোর জন্য মিসটেক হিসাবে বিবেচ্য হয়ে থাকে ।
 লোগো ডিজাইনের উপর ভিত্তি করে এর এপ্লিকেশন বা প্রয়োগ নির্ধারন করা উচিৎ ।
 নতুবা লোগোটি এর ভারত্ব থেকে বিচ্যুত হবে ।


7.গ্রোথ  একটি লোগো ব্রান্ড হিসাবে পরিচিত পাবার জন্য এর গ্রোথ গুরুত্বপূর্ণ ।
এই গ্রোথ শুধু মাত্র লোগোর উপর নির্ভর করে না বরং ডিজান এর একটি অংশ ।
লোগোর গ্রোথের জন্য কোম্পানির মাকের্ট ডিলিং এর গুডইল, এর প্রোডাক্টের গুডইলি বিষয় গুলো গুরুত্বপূর্ণ ।
সুতারাং একটি লোগো কেবল ভাল ডিজাইনের জন্যই ব্রান্ডে পরিনত হবে না ।
এর সাথে কোম্পানির সামগ্রিক পারফরমেন্স সম্পৃক্ত থাকে ।
                                লেখক
ওমর ফারুক

শেয়ার করুন