শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯

দুর্নীতির অভিযোগ অভ্যুত্থানের চেষ্টা: নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার পর সব অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘অভ্যুত্থানের চেষ্টা’ আখ্যা দিয়েছেন।

ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল অভিচাই ম্যানডেলব্লিট বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনার কথা জানান।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এ অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন নেতানিয়াহু। এ দুর্নীতি কেলেঙ্কারির কারণে শুক্রবার নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবি উঠেছে।
প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা বেনি গান্টজের নেতৃত্বাধীন সেন্ট্রিস্ট ব্লু এন্ড হোয়াইট পার্টি নেতানিয়াহুকে অবিলম্বে সরকারের সব মন্ত্রিত্বের পদে ইস্তফা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।
তবে নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
কোনো অপকর্ম করার কথা অস্বীকার করে নেতানিয়াহু বলেন, এসব অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ‘অভ্যুত্থানেরই অপচেষ্টা’।
ইসরায়েলের আইনানুযায়ী, নেতানিয়াহুর পদত্যাগের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েল তৃতীয় আরেকটি নির্বাচনের দিকে এগুচ্ছে। ফলে দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিচারের প্রস্তুতি চলতে থাকাকালীন নির্বাচনে জয় পাওয়া তার জন্য কঠিন হবে।
তবে সেক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সহকর্মীদের সমর্থন তার ক্ষমতায় থাকার জন্য সহায়ক হতে পারে। ঊর্ধবতন কয়েকজন মন্ত্রী এরই মধ্যে এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন। বিচারমন্ত্রীও তাদের পক্ষেই সায় দিয়েছেন।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার পক্ষে সংবাদ প্রচারের জন্য বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বিশেষ রাষ্ট্রীয় সুবিধা বা লাখ লাখ ডলারের উপহার দিয়েছেন বা দিতে চেয়েছেন।
ঘুষের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে ইসরায়েলের সবচেয়ে বেশি দিন প্রধানমন্ত্রী থাকা নেতানিয়াহুর সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে। আর জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের সাজা হতে পারে।
শেয়ার করুন