শঙ্খমালা
জীবনানন্দ দাশ
কান্তরের পথ ছেডে সন্ধ্যার আধারে
সে কে এক নারী এসে ডাকিল আমারে
বলিল তোমারে চাই
বেতের ফলের মতো নীলাভ ব্যথিত তোমার দুই চোখ
খুজেছি নক্ষত্রে আমি - কুয়াশার পাখনায় -
সন্ধ্যার নদীর জলে নামে যে আলোক
জোনাকির দেহ হতে - খুজেছি তোমাকে সেই খানে
ধুসর পেঁচার মতো ডানা মেলে অঘ্রাণের অন্ধকারে
ধান সিডির বেয়ে বেয়ে
সোনার সিডির মতো ধানে আর ধানে
তোমাকে খুজেছি আমি নির্জন পেঁচার মতো প্রাণে ।
দেখিলাম দেহ তার বিমর্ষ -পাখির রঙে ভরা ;
সন্ধ্যার আধারে ভিজে শিরীষের ডালে যেই পাখির দেয় ধরা ।
বাকা চাঁদ থেকে যার মাথার উপর ,
শিঙের মতো বাঁকা নল চাঁদ শোনে যায় স্বর
কড়ির মতন সাদা মুখ তার,
দুই খানা হাত তার হিম ;
চোখে তার হিজল কাঠের রক্তিম
চিতা জ্বলে দখিন শিয়রে মাথা শঙ্খমালা যেন পুডে যায় -
সে আগুনে হায় ।
চোখে তার
করুন শঙ্খের মতো -দুধে আর্দ্র -কবেকার শঙ্খিমালার;
এ - পৃথিবী একবার তার পায়ে নাকো আর ।

0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন