ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ৮টা ছুঁইছুঁই। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের মূল ফটকের বাইরে তখন মিছিল আর স্লোগান হচ্ছে। সাকিব আল হাসান নিষিদ্ধ হওয়ায় এক দল লোক জড়ো হয়ে গলা ফাটাচ্ছেন আইসিসি আর বিসিবির বিরুদ্ধে। সে সময়ই মাঠে এলেন সাকিব। তবে মূল ফটক দিয়ে নয়, ঢুকলেন অন্য পাশ দিয়ে। দেখা করলেন বিসিবি কর্তাদের সঙ্গে, মুখোমুখি হলেন সংবাদমাধ্যমের।
সবার আগ্রহের কেন্দ্রে সাকিব এমনিতে সবসময়ই থাকেন। যেখানেই যান, উপলক্ষ্য যেটাই হোক, ক্যামেরার চোখ সবচেয়ে বেশি খোঁজে তাকেই। এ দিন তো শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আলোচনা তাকে নিয়ে। স্টেডিয়ামে আসার পর তার প্রতিটি পদক্ষেপ দেখতে, তার প্রতিটি মূহূর্ত ক্যামেরায় ধারণ করে রাখতে চাইলেন যেন উপস্থিত সবাই।
সংবাদকর্মীদের ছুটোছুটি আর হুড়োহুড়ির মাঝেই সাকিব উঠে এলেন দোতলায় বিসিবি কার্যালয়ে। সেখানে তার অপেক্ষায় ছিলেন বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান ও বোর্ডের শীর্ষ কর্তারা। দুপুর থেকেই চলছিল তাদের আলোচনা। সন্ধ্যায় আইসিসি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার (এক বছর স্থগিত) খবর জানানোর পর তাদের অপেক্ষা ছিল সাকিবের জন্য।
বিসিবি কর্তাদের সঙ্গে মিনিট পনের কথা বলেন সাকিব। এরপর এলেন সংবাদমাধ্যমের সামনে, বিসিবির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে। সাকিবের পাশে ছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান, দুই বোর্ড পরিচালক জালাল ইউনুস ও এনায়েত হোসেন সিরাজ।
বলার অপেক্ষা রাখে না, টইটম্বুর কক্ষে সব সংবাদকর্মীর চোখ ছিল সাকিবের দিকে। শুরুতে তাকে বেশ বিষন্ন মনে হয়েছিল। চোখের কোনায় কি একটু জল ছলছল করছিল? মনে হলো তেমন কিছুই। হয়তো নিজেকে সামলে নিলেন বলে গড়িয়ে পড়ল না চিবুক বেয়ে।
আইসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যদিও তার কথা আছে, তবু আরেকবার তিনি বললেন নিজের কথা। পাঠ করলেন ছোট্ট লিখিত বক্তব্য। কথা শেষে তার দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছিল বটে। তবে থামিয়ে দেন বিসিবি প্রধান, রাখা হয়নি প্রশ্নোত্তর পর্ব।
এরপর কথা বললেন বিসিবি প্রধান। সাকিব পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রায় মূর্তির মতো।
সবার কথা শেষে ফিরে যাওয়ার সময় অবশ্য খানিকটা প্রাণবন্ত দেখা গেল তাকে। পরিচিত সংবাদকর্মীদের দিকে তাকিয়ে একটু হাসলেন। একটু কথাও বললেন। এরপর এগিয়ে গেলেন ভীড় ঠেলে।
পরে বেরিয়ে গেলেন যথারীতি তুমুল হইচইয়ের মধ্যেই। মূল ফটকের বাইরে তখনও গগণবিদারী চিৎকার চলছে আইসিসি আর বিসিবির বিরুদ্ধে। সাকিব নিজে শাস্তি মেনে নিলেও মানতে পারছে না তার ভক্তদের অনেকে!
তবে বাস্তবতা তো সাকিব নিজেও জানেন। তাকে নিয়ে তার গাড়ী বেরিয়ে গেল আস্তে আস্তে। কে জানে, কবে আবার এই আঙিনায় ফেরেন সাকিব!

0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন