বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১

রসায়নবিদ ও আলকেমিস্ট

রসায়নবিদ ও আলকেমিস্ট

 

জাবির ইবন হাইয়ান  রসায়ন এর জনক 

 তিনি ছিলেন একাধারে রসায়নবিদ ও আলকেমিবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও জ্যোতিষী,
 প্রকৌশলী, দার্শনিক, পদার্থবিজ্ঞানী এবং ঔষধ বিশারদ ও চিকিৎসক। 
 তার প্রকৃত জাতীয়তা সঠিকভাবে জানা যায়নি।
 অনেকে বলেন তিনি আরব, অনেকে আবার বলেন তিনি পারস্যের নাগরিক ছিলেন।
 তাকে "রসায়নের জনক" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
 তিনি রসায়নের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া আবিষ্কার 
করেছিলেন যার অনেকগুলো এখনও ব্যবহৃত হয়। 
 তিনি লোহার মরিচা রোধক বার্নিস আবিষ্কার করেছিলেন।
 এছাড়া ধাতুর শোধন,তরলীকরন, বাষ্পীকরন ও তার আবিষ্কার। 
 তিনিই সর্বপ্রথম ইস্পাত তৈরী করার পদ্ধতি বের করেছেন।
 চুলের কলব,কাচ,লেখার কালি তৈরীর প্রক্রিয়া ও ব্যবহার বিধি সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছিলেন।

 আব্বাস ইবনে ফিরনাস 

তিনি ছিলেন একজন আবিষ্কারক
 প্রকৌশলী, উড্ডয়ন বিশারদ, চিকিৎসক, আরবি সাহিত্যের কবি এবং আন্দালুসিয় সুরকার।
  তাকে বলা হয় বিমান এবং বিমানের পিতা
  ইবনে ফিরনাস প্রথম মানব বহনকারী গ্লাইডার তৈরি করেছিলেন 
এবং দু'টি সফল উড়ানের চেষ্টা করেছিলেন
  ইবনে ফিরনাস আল-মাকাতা নামক জলঘড়ির নকশা করেন
  এছাড়াও তিনি স্বচ্ছ কাচ নির্মাণের জন্য যন্ত্রের নকশাও প্রণয়ন করেন।
  তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্য প্ল্যানিস্ফিয়ার নামক যন্ত্র ও পাঠের উপযোগী লেন্স প্রস্তুত করেন।
  গ্রহ নক্ষত্রের ঘূর্ণন প্রদর্শনের জন্য কার্যকর মডেলও তিনি প্রস্তুত করেন।
  তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হল পাথরের স্ফটিককে কাটার প্রক্রিয়া। 
  তার এই আবিষ্কারের ফলে স্পেন কোয়ার্টজ কাটার জন্য
 মিশরের উপর নির্ভরশীলতা থেকে রেহাই পায়।
  ইতিপূর্বে স্পেন এই ব্যাপারে মিশরের উপর নিভরশীল ছিল। 
নিজের বাড়ির একটি কক্ষে নক্ষত্র, মেঘ,বজ্র, আলোকপাত এসব দেখার ব্যবস্থা করেন 
যা তার ভূগর্ভস্থ গবেষণাগারে যান্ত্রিক পদ্ধতির প্রয়োগের মাধ্যমে করা হয়েছিল।
আকাশে উড়ার প্রচেষ্টার জন্য তিনি অধিক পরিমাণে পরিচিত।
 বলা হয় তিনি একজোড়া পাখার মাধ্যমে আকাশে উড়েছিলেন।

 আল-কিন্দি 

পাশ্চাত্য বিশ্বে তিনি লাতিনিকৃত "আলকিন্ডাস" (Alkindus) নামে পরিচিত। 
তিনি ছিলেন একাধারে দার্শনিক, বিজ্ঞানী, জ্যোতিষী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী,
 বিশ্বতত্ত্ববিদ, রসায়নবিদ, যুক্তিবিদ, গণিতজ্ঞ, সঙ্গীতজ্ঞ, পদার্থবিজ্ঞানী, 
 মনোবিজ্ঞানী এবং আবহবিজ্ঞানী। মুসলিম পেরিপ্যাটেটিক দার্শনিকদের মধ্যে তিনিই প্রথম।
 তাই তাকে মুসলিম পেরিপ্যাটেটিক দর্শনের জনক বলা যায়।

আল বিরুনী  

ছিলেন মধ্যযুগের বিশ্বখ্যাত আরবীয় শিক্ষাবিদ ও গবেষক।
 তিনি অত্যন্ত মৌলিক ও গভীর চিন্তধারার অধিকারী ছিলেন। 
 তার পূর্ণ নাম "আবু রায়হান মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আল-বেরুনি"। 
 শহরের বাইরে বসবাস করতেন বলে সাধারণভাবে তিনি আল-বেরুনি নামে পরিচিত। 
 রুশীয় তুর্কিস্তানের খিওয়ায় এটি অবস্থিত ছিল। শহরটি খাওয়ারিজিমের রাজধানীর কাছে ছিল।
 বর্তমানে শহরটি নদীতে বিলীন হয়ে গিয়েছে। এখন এ স্থানটি আল-বেরুনি শহর নামে অভিহিত। 
 তিনি ছিলেন গণিত, জ্যোতিঃপদার্থবিদ, রসায়ন ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে পারদর্শী।
 অধিকন্তু ভূগোলবিদ, ঐতিহাসিক, পঞ্জিকাবিদ, দার্শনিক এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান,
 ভাষাতত্ত্ববিদ ও ধর্মতত্ত্বের নিরপেক্ষ বিশ্লেষক। 

ইবনে সিনা  

পশ্চিমা বিশ্বে আভিসেনা নামে পরিচিত  ছিলেন 
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সেরা চিকিৎসক, গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং দার্শনিক ছিলেন। 
তাঁকে একইসাথে ইরান, তুরস্ক, আফগানিস্তান এবং রাশিয়ার বিজ্ঞজনেরা 
তাদের জাতীয় জ্ঞানবীর হিসেবে দাবি করে।
 মধ্যযুগীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভিত রচনায় তিনি অবদান রেখেছেন। 
 তাঁর মূল অবদান ছিল চিকিৎসা শাস্ত্রে। 
 তিনি চিকিৎসা শাস্ত্রের বিশ্বকোষ কানুন ফিততিব্ব রচনা করেন
 যা ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও 
চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে পাঠ্য ছিল।

 নাসির আল দীন তুসী 

 ছিলেন একজন পারসিক শিয়া মুসলিম বহুশাস্ত্রজ্ঞ, স্থপতি, দার্শনিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও ধর্মতাত্ত্বিক। 
 মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুসলিম বিজ্ঞানী তুসীকে
 প্রায়শই ত্রিকোণমিতির উদ্ভাবক হিসেবে গণ্য করা হয়।
 তিনিই প্রথম ত্রিকোণমিতিকে একটি স্বতন্ত্র গাণিতিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন

ইবনে খালদুন  

ছিলেন একজন আরব মুসলিম পণ্ডিত। আধুনিক সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস ও 
অর্থনীতির জনকদের মধ্যে তিনি অন্যতম বিবেচিত হন।
ইবনে খালদুন তাঁর বই মুকাদ্দিমার জন্য অধিক পরিচিত।
 এই বই ১৭ শতকের উসমানীয় ইতিহাসবিদ কাতিপ চেলেবি ও মোস্তফা নাইমাকে প্রভাবিত করে।
 তাঁরা উসমানীয় সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতন বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে এই বইয়ের তত্ত্ব ব্যবহার করেন। 
 শতকের ইউরোপীয় পণ্ডিতরা এই বইয়ের গুরুত্ব স্বীকার করেন 
 এবং ইবনে খালদুনকে মুসলিম বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দার্শনিকদের অন্যতম হিসেবে গণ্য করতেন।

আল খোয়ারিজমি  

তিনি ছিলেন একাধারে গণিতজ্ঞ, ভূগোলবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী।
আল-খারেজমি রচিত কিতাব আল জাবর ওয়াল মুকাবলাতে 
তিনি রৈখিক এবং দ্বিঘাত সমীকরণ এর প্রথম পদ্ধতিগত সমাধান উপস্থাপন করেন।
 বীজগণিতে তার প্রধান সাফল্য ছিল বর্গের সাহায্যে দ্বিঘাত সমীকরণের সমধান, 
 এর জন্য তিনি জ্যামিতিক প্রমাণ প্রদান করেন। 
 সর্বপ্রথম তিনিই বীজগণিতকে স্বাধীন শাখা হিসেবে তুলে ধরেন 
 এবং সমীকরণ সমাধানের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন,
 তাই খোয়ারিজমিকে বীজগণিতের জনক  বা প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়

আবদুল কাদের খান  

একজন পাকিস্তানি পরমাণু বিজ্ঞানী এবং একজন ধাতুবিদ্যা প্রকৌশলী। 
পাকিস্তানের সমন্বিত পারমাণবিক বোমা প্রকল্পের জন্য এইচইইউ ভিত্তিক গ্যাস-সেন্ট্রিফিউস ইউরেনিয়াম 
সমৃদ্ধিকরণ প্রোগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে গণ্য করা হয়। 
 ১৯৭৬ সালে, তিনি খান গবেষণা পরিক্ষাগারসমূহ (কেআরএল) প্রতিষ্ঠিত করেন।
 ২০০১ সালে, অবসর হওয়ার পর্যন্ত তিনি একজন সাধারণ-পরিচালক 
 এবং ঊর্ধ্বতন বিজ্ঞানী ছিলেন এবং অন্যান্য বিজ্ঞান প্রকল্পে 
 তিনি একটি প্রাথমিক এবং প্রাণপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। 
 পারমাণবিক বোমা প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী ছাড়াও, তিনি আণবিক অঙ্গসংস্থানবিদ্যা,
 বাস্তব মারটেনসাইট এবং তার সমন্বিত ঘনীভূত এবং উপাদান পদার্থবিদ্যাতে অবদান রাখেন।

শেয়ার করুন