বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১

মুসলিম জ্যোতির্বিদ

মুসলিম জ্যোতির্বিদ -omar faruk

 সিন্দ ইবন আলী 

জ্যোতির্বিদ্যা-সংক্রান্ত জিজ আল সিন্দ হিন্দ অনুবাদ ও সম্পাদনার জন্য তিনি পরিচিতি লাভ করেন।
একজন গণিতবিদ হিসাবে সিন্দ ইবনে আলী আল খোয়ারিজমির সহকর্মী ছিলেন
এবং ইয়াকুব ইবনে তারিক এর সাথে মিলে পৃথিবীর ব্যাস নির্ণয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন।

আল খাওয়ারিযমী , ( গণিতবিদ  }

সর্বপ্রথম তিনিই বীজগণিতকে স্বাধীন শাখা হিসেবে তুলে ধরেন
 এবং সমীকরণ সমাধানের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন, 
 তাই খোয়ারিজমিকে বীজগণিতের জনক বা প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।

বনু মুসা (৯ম শতাব্দী)

আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবন মুসা ইবন শাকির, আবুল কাশিম আহমাদ ইবন মুসা ইবন শাকির 
এবং আল-হাসান ইবন মুসা ইবন শাকির।
 তাঁরা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের উপর তাঁদের বই কিতাব আল-হিয়্যাল (আরবি: كتاب الحيل আক্ষরিক অর্থে:
 "কৌশলের বই") এবং তাঁদের যান্ত্রিক আবিষ্কারগুলোর জন্যে পরিচিত।
 তাঁদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হচ্ছে কিতাব মারিফা'ত মাসাহাত আল-আশকাল আল-বাসিতা ওয়া'ল-কুরিয়্যা 
 (আরবি: كتاب معرفة مساحة الاشكال البسيطة و الكورية অনুবাদ
 : "সমতল ও গোলাকার আকৃতিসমূহের পরিমাপ সম্পর্কে জানার বই") বইটি। 
 এটি জ্যামিতির উপর একটি কর্ম যা প্রায়শই ইসলামি ও ইউরোপীয় গণিতবিদরা উদ্ধৃত করতেন।
বনু মুসা ভ্রাতৃবৃন্দ বাগদাদে আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণাগারে কাজ করতেন। 
পাশাপাশি, তাঁরা বাইতুল হিকমাহতে গবেষণা করতেন।
 তাঁরা নবম শতাব্দীতে ডিগ্রীর একক দৈর্ঘ্য নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে জিওডেসিক পরিমাপের একটি অভিযানেও অংশগ্রহণ করেন।

আল বাত্তানী (৮৫৮-৯২৯)

ছিলেন একজন আরব জ্যোতির্বিজ্ঞানী  এবং গণিতবিদ। 
তিনি অনেকগুলি ত্রিকোণমিতির সম্পর্ককেরও উদ্ভাবক 
,এবং তার রচিত এবং কিতাবুল আয-জিজ থেকে কোপারনিকাস 
সহ অনেক মধ্যযুগীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা উদ্ধৃতি  প্রদান করতেন
আল ফারাবী (৮৭২-৯৫০)
 একজন প্রখ্যাত মুসলিম দার্শনিক ও বিজ্ঞানী।
এছাড়াও তিনি একজন মহাবিশ্বতত্ত্ববিদ, যুক্তিবিদ এবং সুরকার ছিলেন। 
পদার্থ বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান, দর্শন, যুক্তিশাস্ত্র, গণিতশাস্ত্র, 
চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রভৃতিতে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। 
পদার্থ বিজ্ঞানে তিনিই 'শূন্যতা'-র অবস্থান প্রমাণ করেছিলেন।

ওমর খৈয়াম 

মধ্যযুগের একজন প্রধান গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
 তার বীজগণিতের গুরুত্বপূর্ণ “Treatise on Demonstration of Problems of Algebra“ 
 গ্রন্থে তিনি ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধানের একটি পদ্ধতি বর্ণনা করেন।
 এই পদ্ধতিতে একটি পরাবৃত্তকে বৃত্তের ছেদক বানিয়ে ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধান করা হয়।
 ইসলামি বর্ষপঞ্জি সংস্কারেও তার অবদান রয়েছে।

 আল বিরুনী 

 তিনি ছিলেন গণিত, জ্যোতিঃপদার্থবিদ, রসায়ন ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে পারদর্শী।
 অধিকন্তু ভূগোলবিদ, ঐতিহাসিক, পঞ্জিকাবিদ, দার্শনিক এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান,
 ভাষাতত্ত্ববিদ ও ধর্মতত্ত্বের নিরপেক্ষ বিশ্লেষক। স্বাধীন চিন্তা, মুক্তবুদ্ধি, সাহসিকতা,
 নির্ভীক সমালোচক ও সঠিক মতামতের জন্য যুগশ্রেষ্ঠ বলে স্বীকৃত। 
 হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর শেষার্ধ ও পঞ্চম শতাব্দীর প্রথমার্ধকে আল-বেরুনির কাল বলে উল্লেখ করা হয়।
 তিনি সর্বপ্রথম প্রাচ্যের জ্ঞানবিজ্ঞান, বিশেষ করে ভারতের 
 জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি মুসলিম মনীষীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। 
 অধ্যাপক মাপা বলেন, "আল-বেরুনি শুধু মুসলিম বিশ্বেরই নন, 
 বরং তিনি ছিলেন সমগ্র বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জ্ঞানীদের একজন।

ইবন সিনা 

ছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সেরা চিকিৎসক, গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং দার্শনিক ছিলেন। 
তাঁকে একইসাথে ইরান, তুরস্ক, আফগানিস্তান এবং 
রাশিয়ার বিজ্ঞজনেরা তাদের জাতীয় জ্ঞানবীর হিসেবে দাবি করে। 
মধ্যযুগীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভিত রচনায় তিনি অবদান রেখেছেন।
 তাঁর মূল অবদান ছিল চিকিৎসা শাস্ত্রে।
 তিনি চিকিৎসা শাস্ত্রের বিশ্বকোষ কানুন ফিততিব্ব রচনা করেন যা ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত প্রাচ্য
 ও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে পাঠ্য ছিল।
 আরবিতে ইবন সিনাকে শায়খুল রাইস তথা জ্ঞানীকুল শিরোমণি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

নাসির আল-দীন তুসী 

 ছিলেন একজন পারসিক শিয়া মুসলিম বহুশাস্ত্রজ্ঞ, স্থপতি, দার্শনিক,
 চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও ধর্মতাত্ত্বিক। 
 মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুসলিম বিজ্ঞানী তুসীকে 
 প্রায়শই ত্রিকোণমিতির উদ্ভাবক হিসেবে গণ্য করা হয়।
 তিনিই প্রথম ত্রিকোণমিতিকে একটি স্বতন্ত্র গাণিতিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন

উলুগ বেগ 

 ছিলেন তৈমুরী বংশীয় সুলতান এবং একজন প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ ও গণিতবিদ।
 উলুগ বেগ যার অর্থ করা যেতে পারে "মহান শাসক"। 
 জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত গণিতের নানা বিভাগে -যেমন 
 ত্রিকোণমিতি (trigonometry) বা গোলকীয় জ্যামিতি (spherical geometry)
 - তার অবদানের জন্য তিনি বিখ্যাত। 
 ধারণা করা হয় যে তিনি পাঁচটি ভাষায় কথা বলতে পারতেন: 
 আরবি, ফারসি, তুর্কীয়, মঙ্গোলিয়ান এবং অল্প পরিমাণে চীনা।
শেয়ার করুন